আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনাদের জন্য আজকে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে তার প্রভাব সারা বিশ্বে কম বেশি দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে নির্মম ভাবে হত্যা এবং নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ইরান আমেরিকা ইসরাইলের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সমস্ত অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মুসলিম উম্মার করনীয় সম্পর্কে আপনাদের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। সাথেই থাকবেন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন যে, ইসরায়েল “মানবিক সীমা অতিক্রম করেছে” এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে আক্রমণ চলছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আরব বিশ্বের ভূমিকা এবং মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:
আরব বিশ্ব কেন সম্মিলিতভাবে বাধা দিতে পারছে না?
আরব বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকলেও, বর্তমানে বেশ কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে তারা সরাসরি সামরিক বা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না:
রাজনৈতিক বিভাজন: আরব দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থ (যেমন: ইরান বা তুরস্কের সাথে সম্পর্ক) অনেক সময় তাদের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থনৈতিক ও সামরিক নির্ভরশীলতা: অনেক আরব দেশের অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পশ্চিমা দেশগুলোর (বিশেষ করে আমেরিকার) ওপর নির্ভরশীল। সরাসরি ইসরায়েল বিরোধী কঠোর অবস্থান নিলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক সহায়তায় টান পড়ার ভয় থাকে।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস (Abraham Accords): সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর মতো দেশগুলো ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্কের কারণে তারা এখন আর আগের মতো কঠোর অবস্থান নিতে পারছে না।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা: আরব লীগ বা OIC-এর মতো সংস্থাগুলো বারংবার নিন্দা জানাচ্ছে এবং জরুরি সম্মেলন করছে, কিন্তু তাদের কাছে কোনো “যৌথ সেনাবাহিনী” বা এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যা দিয়ে সরাসরি যুদ্ধ থামানো যায়।
মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব কতটুকু?
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক বিচারে মুসলিম উম্মাহর ওপর বড় ধরনের দায়িত্ব বর্তায়:
ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা: কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী, মুসলিমরা একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশে ব্যথা হলে যেমন সারা শরীর অনুভব করে, তেমনি ফিলিস্তিনের কষ্ট পুরো উম্মাহর কষ্ট হওয়া উচিত।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্বের ৫৬টির বেশি মুসলিম দেশ চাইলে সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পণ্য বয়কট থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিশ্বকে কার্যকর বার্তা দেওয়া সম্ভব।
মানবিক সহায়তা: খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য উম্মাহর প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যক্তির এগিয়ে আসা উচিত।
জনমত তৈরি: বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা অবিচারের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা প্রত্যেক মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব।
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।