আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ। চলমান সংসদ ভবনের কার্যকলাপ, ব্যবহৃত ভাষা এবং বিভিন্ন সময় অসময়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যতীত অন্য বিষয় নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ের আক্রমণ নিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হয়। তা নিয়ে একটি আলোচনা। আপনারা সাথেই থাকুন।
জাতীয় সংসদের ভেতরে বা বাইরে কোনো সংসদ সদস্যের এ ধরনের বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং কাউকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া আক্রমণাত্মক মন্তব্যগুলো মূলত বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাস, দলীয় কোন্দল এবং ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট ঘটনা এবং বক্তব্যটির প্রেক্ষাপট নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বক্তব্যের মূল লক্ষ্য রাজাকারের বাচ্চা বলে (কাদের মিন করেন?):
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন কোনো সংসদ সদস্য বা রাজনীতিবিদ অন্য কাউকে “রাজাকারের বাচ্চা” বা এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে গালি দেন, তখন সাধারণত দুটি পক্ষকে নির্দেশ করা হয়:
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি—উভয় দলই বিভিন্ন সময়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে আপস করার বা তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে থাকে।
ব্যক্তিগত বা দলীয় আক্রমণ:
অনেক সময় সংসদের ফ্লোরে বা জনসভায় প্রতিপক্ষ দলের কোনো নেতার অতীত পারিবারিক ইতিহাস বা তাদের পূর্বপুরুষদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিতর্কিত ভূমিকাকে সামনে এনে ব্যক্তিগতভাবে কোণঠাসা করার জন্য এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়।
২. কেন এই ধরনের মন্তব্য করা হয়?:
সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পেছনে মূলত কয়েকটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকে:
আবেগ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ এবং ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী দুটি ইস্যু। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রতিপক্ষকে নৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল প্রমাণ করার জন্য এই ধরনের শব্দকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
দলীয় আনুগত্য প্রমাণ:
অনেক সময় দলবদলকারী বা নতুন কোনো দলে যোগ দেওয়া রাজনীতিবিদরা তাদের বর্তমান দলের নীতি ও অবস্থানের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উগ্রতা দেখাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনে তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগ করেন। এতে তারা দলের ভেতরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন।
লাইমলাইটে আসা বা দৃষ্টি আকর্ষণ:
সংসদীয় বিতর্কে অনেক সময় আলোচনায় আসার জন্য বা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেকে সংসদীয় শিষ্টাচার বা ভাষা ব্যবহারের পরিমার্জিত রূপ ভুলে গিয়ে চরম উগ্র ভাষা ব্যবহার করে বসেন।
সংসদীয় পরিভাষা সংক্রান্ত নোট:
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সংসদের ভেতর কোনো সদস্য যদি অশালীন, অবমাননাকর বা সংসদীয় শিষ্টাচার-বহির্ভূত কোনো শব্দ বা গালি ব্যবহার করেন, তবে স্পিকারের দায়িত্ব থাকে সেই শব্দগুলোকে সংসদের কার্যবিবরণী (Proceedings) থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ (Expunge) বা মুছে ফেলা। ফলে এই ধরনের শব্দ উচ্চারণ করা হলেও তা আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে রাখার নিয়ম নেই।
আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এবং এইরকম দলবদলকারী কিছু নতুন দলীয় নেতাকর্মীদের অতিমাত্রায় তোষণকারীদের চরিত্র ফুটে উঠেছে। আপনাদের মন্তব্য আশা করছি। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।
লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম,
দুবাই , সংযুক্ত আরব আমিরাত।